আজকের কথাবেনাপোল(যশোর): যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গতকাল ৩৭২ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি,রফতানি বাণিজ্য এবং ১৭৮৫ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছে। এসময় বানিজ্য খাতে সরকারের প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং ভ্রমন খাতে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রাজস্ব আহরন হয়েছে। ০৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
রোববার(১৬ নভেম্বর) দুপুরে বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পলাশ হোসেন বেনাপোল রুটে বানিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, রোববার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকা মিলেছে ৭২.৫০ রুপি এবং ভারতীয় ১০০ টাকায় বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩৪ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মুল্য ছিল ১২৫.৫০ টাকা এবং বিক্রয় মুল্য ১২৬.৫০ টাকা।
বন্দরের তথ্য মতে, প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি ও রফতানি বানিজ্য শুরু হয়। শনিবার দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৩১ ট্রাক পণ্য। আমদানি পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্পকলকারখানার কাচামাল,তৈরী পোশাক,কেমিকেল,শিশু খাদ্য,মেশেনারিজ দ্রুব,অক্সিজেন,বিভিন্ন প্রকারে ফল, চাল, পেঁয়াজ,মাছ সহ বিভিন্ন পণ্য। বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি বানিজ্য হয়েছে ১৪১ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্যে মধ্যে উল্লেখ্য ছিল, বসুন্ধারা টিসু,মেলামাইন,কেমিকেল মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামসুর রহমান জানান, ০৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ০৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বানিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি,রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধের নিচে কমে এসেছে। এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বানিজ্যের পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বেশ কয়েকটি বন্দরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বসে বসে কর্মচারীরা বেতন,ভাতা নিচ্ছে। কিন্তু কোন ধরনের আমদানি,রফতানি হয়না। এসব বন্দর অনুমোদনের ক্ষেত্রে বানিজ্যিক চাহিদার গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়নি।
ইমিগ্রেশন তথ্য জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৬ টা থেকে বেনাপোল -পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। রোববার ভোর সাড়ে ৬ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৭৮৫ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৮৩১ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৪৭৮ জন,ভারতীয় ৩৫২ জন ও অনান্য দেশের নাগরীক ১ জন। অপর দিকে ভারত থেকে ফিরেছে ৯৫৪ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৬৫৭ জন,ভারতীয় ২৯৫ জন ও অনান্য দেশের নাগরীক ২ জন।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, ২০ অক্টোবর রেল পথে ভারত থেকে ১০০ টি ট্রাকটর আমদানি হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত রেলপথে কোন পণ্য আমদানি হয়নি। এছাড়া গত বছরের ০৫ আগস্টের পর থেকে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহি রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
















