আজকের কথা(যশোর): যশোর ৮৫/১ সংসদীয় আসন শার্শাতে ধানের শিষের মনোনিত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে প্রায় ১ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিএনপির একাংশ। এসময় সড়কে যানজটে মানুষের চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকালে বেনাপোল- যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে যশোর ১ আসন বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্নের মধ্যে যখন তাঁর সুস্থতায় সারাদেশের মানুষ দোয়া করছেন ঠিক তখন মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে যশোরের শার্শায় সড়ক অবরোধ করেছে। বিষয়টিকে ভালভাবে নেননি সাধারণ মানুষেরা। তীব্র যানজট সৃষ্টি করে এ ধরণের কর্মসূচি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নীতিবাচক সমালোচনা করতে দেখা যায় অনেকেই।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মহসিন কবির গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, নেত্রীর এই সংকটময় অন্তীমমূর্হতে এই ধরণের দলীয় সংকীর্ণ কর্মসূচি যারা করছে তারা বিএনপির কর্মী হতে পারে না। তাদের মধ্যে নূন্যতম মানবিকতা বলে কিছু নেই। দল বা নেত্রীর প্রতি ভালোবাসা থাকলে এধরণের কর্মসূচি করতে পারে না।
জানা যায়, সীমান্তবর্তী উপজেলা শাশা উপজেলা নিয়ে যশোর -১ আসন গঠিত। মনোনয়ন নিয়ে প্রথম থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিলো প্রকট। হাফ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে এই আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান (তৃপ্তি)। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি গণসংযোগ করছেন । যদিও শার্শা বিএনপির একাংশের নেতারা প্রার্থী বদলের জন্য কেন্দ্রে লিখিত আবেদন করেছেন।
আসনটিতে আরো মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন । মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে এই দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসাবে শনিবার বিকালে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠে সমাবেশ হয়। পরে নেতাকর্মীরা যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দিয়ে শার্শার অভিমুখী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় অনেকেই কাফনের কাপড় পরিধান করে সড়কে অবস্থান নেন। নাভারণ মোড়ে যেয়ে এই কর্মসুচি শেষ করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে এই কর্মসূচি চলাতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
এদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী ও মাঠের পরীক্ষিত নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে হঠাৎ করে একজন ‘সংস্কারপন্থী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।
উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসি উদ্দীন বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব বলেছেন প্রয়োজনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হবে। আমরা সে আশায় মাঠে নেমেছি। যদি এই প্রার্থী বাতিল না করা হয়, তবে বিএনপি এই আসনে ঠকে যাবে।
মিন্টু নামে সড়ক অবরোধে অংশ নেওযা এক বিএনপি নেতা বলেন, বিগত ১৫ বছর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনক পাশে থেকেছে। কিন্তু তাদের বঞ্চিত করে দলের দুঃসময়ে যে কোনদিন মাঠে ছিলো না তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো এটা আমরা মানি না। যদি তিনি দলের দূর্দিনে থাকতেন, তাহলে মানতাম। কিন্তু এই অতিথি পাখির মনোনয়ন পরিবর্তন চাইছি। বিক্ষোভ শেষে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মনোনয়ন প্রত্যাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পূর্ণবিবেচনার দাবিতে তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করছে। সেখানে আমরা ছিলাম না। তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীদের আবেগের জায়গা থেকে তারা দাবি জানাচ্ছে। তবে তারা যখন শুনেছে বিএনপির চেয়ারপারসর্ন শারিরিক অবস্থা সংকটপন্ন। তখনই তারা দোয়া করে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করে দেন।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘দলীয় প্রধানের অন্তীমমূর্হতে আমরা দোয়া মাহফিল ছাড়া করছি না। এমন মূর্হতে শার্শায় সড়ক অবরোধ করে মনোনয়নের দাবিতে বিক্ষোভ অবরোধ করা সমালোচনা করার মতোই কর্মকান্ড করে তারা। কর্মসূচির বিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা দলীয়ভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছি।
















