১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫

দেশে ফিরেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ মুসা

ডেস্ক নিউজ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত শিশু বাসিত খান মুসা (৭) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টায় শেষে দেশে ফিরেছে। ৫ মাস ১২ দিন পর সে দেশে ফিরল।

মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামনি দম্পতির একমাত্র সন্তান বাসিত খান মুসা। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে নেমে দাদি মায়া ইসলাম (৬০) ও মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান।

গুলিবিদ্ধ মুসাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়।  সংকটাপন্ন অবস্থায় মুসাকে সিএমএইচ থেকে গত বছরের ২২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে পাঠায় সরকার।বিমানবন্দরে নামার পর মুসাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিএমএইচে।

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মুসার উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাকে অন্তত তিন মাস আলাদাভাবে রাখতে হবে।

মুসার পরিবার ও সিএমএইচের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশে থাকা অবস্থায় মুসা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিল। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র ছাড়া শ্বাস নিতে পারত না। খিঁচুনি হতো। মুসার দেহ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ–প্রতিরোধী হয়ে পড়েছিল। রক্তে সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছিল না বলে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। তার ডান পাশ শুরু থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিল। চোখের পাতাও নড়াত না।

সিঙ্গাপুরে অনেক ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে মুসার সংক্রমণ ঠেকানো হয়। চিকিৎসায় ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসায় মুসার মাথা, গলা, পেটে ২০টির বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

মা নিশামনি বলেন, মুসার মাথায় গুলি বাঁ দিক দিয়ে ঢুকেছিল। অনেক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হয়েছেন, গুলিটা ডান পাশে আটকে আছে। এটা বের করা যাচ্ছে না। ওর ডান হাত–পা ও মুখমণ্ডল অর্থাৎ পুরো ডানপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ফলে ও নিজে থেকে উঠে বসতে পারে না। কিছুটা সাহায্য করলে উঠে বসতে পারে।। তবে ও হাসে–খেলে।

নিশামনি আরও জানান, এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় মুসা হাঁ করে নিজে থেকে খেতে পারে না। তাকে নাকে নল দিয়ে খাওয়ানো হয়। প্রস্রাব–পায়খানার কথাও বলতে পারে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে মুসার উন্নতি হতে পারে।

সিএমএইচে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর মুসাকে ঢাকার সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) নেওয়া হবে। সে যেন হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে, সেই লক্ষে  লম্বা সময় ধরে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং স্পিচ থেরাপি দেওয়া হবে। সরকার এ ব্যয় বহন করবে।

ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে মুসাকে দ্রুত পুর্নবাসন করে বাড়ি পাঠানো তাঁদের লক্ষ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

দেশে ফিরেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ মুসা

আপডেট: ০৯:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত শিশু বাসিত খান মুসা (৭) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টায় শেষে দেশে ফিরেছে। ৫ মাস ১২ দিন পর সে দেশে ফিরল।

মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামনি দম্পতির একমাত্র সন্তান বাসিত খান মুসা। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে নেমে দাদি মায়া ইসলাম (৬০) ও মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান।

গুলিবিদ্ধ মুসাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়।  সংকটাপন্ন অবস্থায় মুসাকে সিএমএইচ থেকে গত বছরের ২২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে পাঠায় সরকার।বিমানবন্দরে নামার পর মুসাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিএমএইচে।

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মুসার উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাকে অন্তত তিন মাস আলাদাভাবে রাখতে হবে।

মুসার পরিবার ও সিএমএইচের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশে থাকা অবস্থায় মুসা নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিল। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র ছাড়া শ্বাস নিতে পারত না। খিঁচুনি হতো। মুসার দেহ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ–প্রতিরোধী হয়ে পড়েছিল। রক্তে সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছিল না বলে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। তার ডান পাশ শুরু থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিল। চোখের পাতাও নড়াত না।

সিঙ্গাপুরে অনেক ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে মুসার সংক্রমণ ঠেকানো হয়। চিকিৎসায় ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসায় মুসার মাথা, গলা, পেটে ২০টির বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

মা নিশামনি বলেন, মুসার মাথায় গুলি বাঁ দিক দিয়ে ঢুকেছিল। অনেক পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হয়েছেন, গুলিটা ডান পাশে আটকে আছে। এটা বের করা যাচ্ছে না। ওর ডান হাত–পা ও মুখমণ্ডল অর্থাৎ পুরো ডানপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ফলে ও নিজে থেকে উঠে বসতে পারে না। কিছুটা সাহায্য করলে উঠে বসতে পারে।। তবে ও হাসে–খেলে।

নিশামনি আরও জানান, এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় মুসা হাঁ করে নিজে থেকে খেতে পারে না। তাকে নাকে নল দিয়ে খাওয়ানো হয়। প্রস্রাব–পায়খানার কথাও বলতে পারে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে মুসার উন্নতি হতে পারে।

সিএমএইচে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর মুসাকে ঢাকার সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) নেওয়া হবে। সে যেন হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে, সেই লক্ষে  লম্বা সময় ধরে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি এবং স্পিচ থেরাপি দেওয়া হবে। সরকার এ ব্যয় বহন করবে।

ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে মুসাকে দ্রুত পুর্নবাসন করে বাড়ি পাঠানো তাঁদের লক্ষ্য।